ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এশিয়ায় শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও গতকাল এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোয় ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি জাপানের নিক্কেইসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে চীনা নববর্ষের ছুটির কারণে চীন, হংকং ও সিঙ্গাপুরের মতো বড় বাজারগুলো এদিন বন্ধ ছিল। খবর রয়টার্স।

জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক নিক্কেই ২২৫ গতকাল ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে টানা তিনদিনের দরপতনের অবসান ঘটিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা কাটিয়ে স্থানীয় শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ায় এ উত্থান ঘটেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ২০০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে এশিয়ার বাজারে চাঙ্গা ভাব থাকলেও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নজর ছিল এআই খাতের ভবিষ্যতের ওপর। এআই প্রযুক্তি শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং কোম্পানিগুলো এ খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে কিনা, তা নিয়ে এখনো এক ধরনের সংশয় কাজ করছে।

জ্বালানি তেলের বাজারে গতকাল কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ করা গেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দশমিক ২ থেকে দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যথাক্রমে প্রতি ব্যারেলের দাম ৬৭ ডলার ৬০ সেন্টে এবং ৬২ ডলার ৫১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন তাদের দীর্ঘদিনের পরমাণু বিরোধ নিরসনে প্রধান ‘নির্দেশনামূলক নীতিগুলোর’ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ খবরের ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমেছে, যা বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুদ্রাবাজারে নিউজিল্যান্ডের ডলারের মান দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৬০ সেন্টে নেমেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার ২ দশমিক ২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও জানিয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে এ নমনীয় নীতি বজায় রাখা হতে পারে। ডলারের বিপরীতে সামান্য শক্তিশালী হয়েছে জাপানি ইয়েন। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের খরচ বাড়ায় আগামী তিন বছরে জাপানের বন্ড ইস্যুর পরিমাণ ২৮ শতাংশ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯২৬ ডলারে পৌঁছেছে এবং রুপার দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ডলার সূচক ৯৭ দশমিক ২২-এ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের জানুয়ারি সভার কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় আছেন, যা থেকে সুদহারের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

আরও